ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে হাইফাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত আজ এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, সোমবার (৬ এপ্রিল) হাইফার ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থা ‘ইসরায়েল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস’ এবং ‘হோம் ফ্রন্ট কমান্ড’ এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের হাইফাতে এই আঘাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৪৮ সালের সেই আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের স্মৃতিকে। তখন আরব রাষ্ট্রগুলো যেভাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, আজ ইরান ব্যালিস্টিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই একই ভীতি তৈরি করছে।
ঐতিহাসিক তুলনা: ইরানের এই হামলা মূলত তাদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই-এর হত্যার ‘পাল্টা প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি অনেকটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেই গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধের সংমিশ্রণ-এর মতো, যেখানে শত্রু যখন মনে করে তারা নিরাপদ, ঠিক তখনই তাদের হৃদপিণ্ডে আঘাত হানা হয়।
ইসরায়েল সবসময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অভেদ্য দাবি করে এসেছে। কিন্তু হাইফাতে প্রাণহানি প্রমাণ করে যে, হাইপারসনিক বা উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরক্ষাই ১০০ শতাংশ কার্যকর নয়।
বিবর্তনের ধারা: ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে সীমিত সম্পদ দিয়ে পাকিস্তানি শক্তিশালী বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছিল, ইরানও আজ সস্তা ড্রোন এবং দামি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘স্নোবল ইফেক্ট’ তৈরি করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেটকে ধসিয়ে দিচ্ছে। হাইফার ধ্বংসস্তূপ কেবল দালানের নয়, এটি ইসরায়েলের ‘অজেয়’ ইমেজেরও ধস।
একদিকে হাইফাতে লাশ উদ্ধার হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষণ: এই আলোচনা অনেকটা যুদ্ধের মাঝখানে ‘শ্বাস নেওয়ার’ চেষ্টার মতো। ট্রাম্প যেমন একদিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর প্রশাসন পর্দার আড়ালে আলোচনাও চালাচ্ছে। এটি আমেরিকার চিরচেনা ‘ক্যারেট অ্যান্ড স্টিক’ (Carrot and Stick) নীতি—এক হাতে গাজর (শান্তি প্রস্তাব), অন্য হাতে লাঠি (হামলার হুমকি)।
হাইফাতে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তেলের বাজারে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
প্রভাব: হাইফা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হওয়ায় এর ওপর হামলা বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমরা বাংলাদেশি হিসেবে ‘এক পা এক পা’ করে যে স্বপ্ন বুনছিলাম, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের লেলিহান শিখা আমাদের সেই স্বপ্নকে জ্বালানি সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়ানোর পেছনে হাইফার এই হামলারও একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকা রয়েছে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: হাইফাতে লাশ উদ্ধার হওয়া মানে হলো—ইসরায়েল এখন তার নিজ ভূমিতেও নিরাপদ নয়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা চাইলে ইসরায়েলের জনবহুল শহরে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নেতানিয়াহু এই প্রাণহানির বদলা নিতে লেবানন বা সরাসরি ইরানে কত বড় আক্রমণ চালায়। মঙ্গলবার ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই হাইফার এই ঘটনা যুদ্ধের বারুদে স্ফুলিঙ্গের কাজ করল।
| ঘটনা | বিস্তারিত বিবরণ | প্রভাব |
| হামলার ধরণ | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile)। | ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষায় ছিদ্র। |
| নিহত | ২ জন (লাশ উদ্ধার)। | ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। |
| নিখোঁজ | অন্তত ২ জন এখনো নিখোঁজ। | উদ্ধার অভিযান ও শোকের ছায়া। |
| বর্তমান অবস্থা | হাইফা বন্দরে সতর্কতা জারি। | ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলে বিঘ্ন। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |